Bangla Article, by MD. MAHMUD
বহু মহাবিশ্ব :
সামপ্রতিককালে বহু মহাবিশ্বের ধারণাটি বিজ্ঞানী সমপ্রদয়ে ব্যাপক সামর্থন লাভ করেছে । বহু মহাবিশ্বের ধারণাটি হল এই যেঃ এটাকে যদি সত্য বলে ধরে নেওয়া হয় যে, মহাবিষ্ফোরণের আগের অবস'াটা ছিল কৃষ্ণগহ্বরের মতো অবস'া, তাহলে আমাদের মহাবিশ্বে যে অসংখ্য কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে, এগুলোর কোন কোনটি ভিন্ন ডাইমেনশনে নিশ্চয়ই নতুন মহাবিশ্ব জন্ম দিচ্ছে । আর ব্যপারটা যদি তাই হয় তাহলে তো আমাদের বিশ্ব জগতের কাঠামোটি হবে এত দিনের প্রচলিত ধারনার চেয়ে অনেক বিশাল যেখানে মহাবিশ্ব শুধু একটি নয় - আছে অসংখ্য ।
পেনসিলভানিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী লী স্মোলিন মনে করেন, সুদূর অতীতে কোন এক দুর্জ্ঞেয় ঘটনা থেকে বহু মহাবিশ্ব সৃষ্টির ভিত্তি রচিত হয়েছিল । পরবর্তিতে এমন অনেক মহাবিশ্ব জন্ম নিয়েছিল যেগুলোর ভৌত নিয়মগুলো ছিল সেগুলোর অসি'ত্বের পরিপনি' । ফলে সেগুলো আপনা থেকে ধ্বংশ হয়ে যায় । কিংবা বাষ্প হয়ে উড়ে যায় । পরে আর এগুলোর কথা শোনা যায় নি । কিন' আমাদের এই মহাবিশ্বের মতো একই ধরনের প্রাকৃতিক বা ভৌত নিয়ম সূত্র নিয়ে যেসব মহাবিশ্ব জন্মলাভ করেছিল সেগুলোতে কৃষ্ণগহ্বর তৈরী হওয়ার অনুকূল পরিবেশও অবশ্যই ছিল । এজাতীয় মহাবিশ্ব কৃষ্ণগহ্বরগুলোকে কন্যা মহাবিশ্ব জন্মদানেরও সুযোগ তৈরী করে দিয়েছিল । কালের প্রবাহে কল্পনাতীত রকমের বিশাল ও জটিল ধরনের বহু মহাবিশ্বে র আবির্ভাব ঘটে । মহাজগতের অধিকাংশ স'ানে কাজ করে চলে একই রকমের ভৌত বা প্রাকৃতিক নিয়মসূত্র । তখন মহাজাগতিক পরিসরে শুরু হয় প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ যে পারে সে টিকে থাকে । যে পারে না বিলীন হয়ে যায়। আজকের বিজ্ঞানীদের এক বিরাট অংশ বহুমহাবিশ্বের ধারনাকে সমর্থন করলেও এখনো পর্যন-অন্যান্য মহাবিশ্ব বা মাত্রার অসি-ত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় নি ।
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে আরেকটা ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে স্ফীতি বা তত্ত্বে । বিজ্ঞানী মহলে এই ব্যাখ্যা নিয়েও যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে । স্ফীতি তত্ত্ব বলে যে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের প্রবক্তারা যেভাবে কল্পনা করেছেন, সৃষ্টির মুহূর্তটি তার চেয়েও অনেক চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর । প্রচলিত মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বলে,যে পদার্থ দিয়ে মহাবিশ্ব গঠিত তার অসি-ত্ব আগে থেকে ছিল । প্রবল চাপে সেগুলো অনন্যতায় পরিনত হয়েছিল অথবা অতি উত্তপ্ত হয়ে বুদবুদের সৃষ্টি হয়েছিল । কিন' স্ফীতি তত্ত্ব বলে যে,সৃষ্টির শুরুতে ছিল একটা কৃত্রিম শূন্যতা বা স্বচ্ছ এলাকা যা বিপুল পরিমাণ “কল্পিত” কণিকায় পরিপূর্ণ ছিল । এই মতবাদ অনুযায়ী মহাবিস্ফোরণেরঠিক আগে কৃত্রিম শূন্য স'ানটি নিম্নমুখী হয়ে পাক খাচ্ছিল । এসময় অবিশ্বাস্য মাত্রায় মহাকর্ষ শক্তি মুক্ত হয়ে পড়ে । এবং কল্পিত কণিকাগুলো অবিশ্বাস্য সংখ্যায় বস'কণিকায় পরিণত হতে থাকে । এ সময় মহাকর্ষ বিরোধী শক্তিও র্শঙ্খলমুক্ত হয়ে যায়। ফলে সব কিছুই প্রচন্ড গতিতে বাইরের দিকে ছুটতে থাকে । বস'কণিকা ও শক্তি এত কল্পনাতীতরকম বিপুল পরিমানে সৃষ্টি হয়যে, নতুন মহাবিশ্বের পক্ষে সম্ভব্য সকল স'ান দখল করে থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকে না ।
স্ফীতি তত্ত্বের মূল ধারণাটির প্রস-াবনা করেছিলেন ১৯৭৯ সালে রাশিয়ার পদার্থবিদ আলেক্সি স্টারোবিনস্কি । পরে একে বিকশিত করেন ম্যাসাচুসেটস ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানী এলান গুথ । এতে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে নাকচ করা না হলেও এর সীমাবদ্ধতাও দেখানো হয়েছে । গুথ বলেছেন যে, “কৃত্রিম শূন্যতা” থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল সেটা হয়তো ঠিক ছিল একটা প্রোটোনের চেয়েও ছোট । মহাজাগতিক সেই সর্ষে দানা থেকে শুধু আমাদের এই দৃশ্যমান মহাজগতই সৃষ্টি হয়নি তারঅনেক বড় কাঠামো তৈরি হয়েছে যার নীহারিকা গুলো টেলিস্কোপের আওতা ছাড়িয়ে ধারনাতিত দূরত্ব পর্যন-বিস-ৃত ।
গুথের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সৃষ্টির সময় মহাবিশ্ব সম্ভবত এক অতি দ্রুত সমপ্রসারণকালের মধ্যে দিয়ে গেছে । এই সমপ্রসারণই হল স্ফীতি । সেই সমপ্রসারণের হার ছিল এত বেশী যে, এক সেকেন্ডের সামান্য মাত্র ভগ্নাংশকালের ভিতরে মহাবিশ্বের ব্যসার্ধ মিলিয়ন, মিলিয়ন , মিলিয়ন, মিলিয়ন,মিলিয়ন ( অর্থাৎ একের পিঠে ত্রিরিশটা শূন্য) গুণ বেড়েছে ।
অবশ্য গুথের স্ফীতি তত্ত্বের যে সীমাবদ্ধতা নেই তা নয় । এই তত্ত্ব বেশ কিছু অপরিক্ষীত ধ্যান ধারনকে আশ্রয় করে আ েছ । গুথের প্রারম্ভিক পর্যায়েরহাবিশ্বের নিয়মসূত্র গুলো “আজ্ঞা” । তবে তিনি বিশ্বাস করেন একদিন সেই সূত্র গুলো ঠিকই জানা যাবে । গুথের অতি শক্তি সম্পন্ন কৃত্রিম শূন্যতা ছিল অতিমাত্রায় জল্পনামূলক । গবেষকরা বাহ্যত শূন্যস'ান থেকে পদার্থ কণিকার আবির্ভাব নির্ণয় করতে পেরেছেন । কিন' সেটা এত ক্ষুদ্র পরিসরে হয়েছে যে তা দিয়ে বলা যায় না যে, শূন্য থেকে নক্ষত্রমন্ডলী সৃষ্টি সম্ভব । জ্যোতির্বিজ্ঞানী রীস-এর ভাষায় ঃ “শূন্যস'ানে কিভাবে শক্তি থাকে এটা মূলত এক রহস্যময় ব্যপার ।”